ns np5 ইলেক্ট্রনবিন্যাস সম্পন্ন মৌল সমূহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ হয়--

Updated: 1 year ago
  • ক
    আয়নিকরণ শক্তি
  • খ
    ইলেক্টট্রন আসক্তি
  • গ
    পরমাণুর আকার
  • ঘ
    ল্যাটিস শক্তি
661
ব্যাখ্যাঃ ইলেকট্রন বিন্যাস \(ns^2 np^5\) এর অর্থ হলো মৌলটির সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরে মোট 7টি ইলেকট্রন আছে (2টি \(s\) অরবিটালে এবং 5টি \(p\) অরবিটালে)। এই ধরনের ইলেকট্রন বিন্যাস পর্যায় সারণীর 17 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নির্দেশ করে, যাদেরকে হ্যালোজেন মৌল বলা হয়।

এই মৌলগুলোর ক্ষেত্রে অষ্টক পূর্ণ করতে মাত্র একটি ইলেকট্রনের প্রয়োজন হয়। তাই তারা একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী প্রবণতা প্রদর্শন করে। এই প্রবণতার কারণে তাদের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য সর্বোচ্চ হয়:

        
  •         ইলেক্ট্রন আসক্তি (Electron Affinity): একটি নিরপেক্ষ, গ্যাসীয় পরমাণুতে একটি ইলেকট্রন যুক্ত হয়ে এক-ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হওয়ার সময় যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ইলেকট্রন আসক্তি বলে। হ্যালোজেন মৌলগুলো একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অষ্টক পূর্ণ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। ফলস্বরূপ, তারা একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করার সময় প্রচুর পরিমাণে শক্তি নির্গত করে। একারণে, তাদের ইলেকট্রন আসক্তি (পরিমাণগতভাবে) পর্যায় সারণীর যেকোনো গ্রুপের মৌলের চেয়ে সর্বোচ্চ হয় (বিশেষত একই পর্যায়ের মধ্যে)।     
  •     
  •         আয়নীকরণ শক্তি (Ionization Energy): এটি হলো একটি নিরপেক্ষ, গ্যাসীয় পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করতে প্রয়োজনীয় শক্তি। হ্যালোজেন মৌলগুলো ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা খুবই কম, কারণ তারা ইলেকট্রন গ্রহণ করে স্থিতিশীল হতে চায়। তাই এদের আয়নীকরণ শক্তি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। তবে, একই পর্যায়ের নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর (গ্রুপ 18) আয়নীকরণ শক্তি হ্যালোজেনদের চেয়েও বেশি হয়, কারণ তাদের ইলেকট্রন বিন্যাস অত্যন্ত স্থিতিশীল।     
  •     
  •         পরমাণুর আকার (Atomic Size): একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কার্যকর নিউক্লীয় আধান বৃদ্ধি পায়, ফলে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াস দ্বারা অধিক আকর্ষিত হয় এবং পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। হ্যালোজেন মৌলগুলো তাদের নিজ নিজ পর্যায়ের ডানদিকে অবস্থিত (নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পূর্ববর্তী), তাই তাদের পারমাণবিক আকার তুলনামূলকভাবে ছোট হয়, সর্বোচ্চ নয়।     
  •     
  •         ল্যাটিস শক্তি (Lattice Energy): এটি এক মোল আয়নিক যৌগ গ্যাসীয় আয়ন থেকে তৈরি হওয়ার সময় যে শক্তি নির্গত হয় তা নির্দেশ করে। এটি একক মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসের প্রত্যক্ষ বৈশিষ্ট্য নয়, বরং আয়নিক যৌগের স্থায়িত্বের একটি পরিমাপ। এটি মৌলের প্রত্যক্ষ গুণের চেয়ে আয়নিক যৌগ গঠনের সাথে সম্পর্কিত।     

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, \(ns^2 np^5\) ইলেকট্রন বিন্যাস সম্পন্ন মৌলসমূহের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রন আসক্তি সর্বোচ্চ হয়, কারণ তারা একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে স্থিতিশীল অষ্টক বিন্যাস অর্জন করতে চায় এবং এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ পরিমাণ শক্তি নির্গত করে।

Satt AI
Satt AI
2 months ago

আয়নিকরণ শক্তির উপর বিভিন্ন নিয়ামকের প্রভাব 

আয়নিকরণ শক্তির উপর বিভিন্ন নিয়ামকের যেমন- পরমাণুর আকার, উপশক্তিস্তর, ইলেকট্রন বিন্যাস ইত্যাদির যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

নিয়ে নিয়ামকসমূহের প্রভাব বর্ণনা করা হলো :

(১) পরমাণুর আকার (Size of Atom) পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনকে অপসারিত করতে প্রয়োজনীয় শক্তিই হলো

আয়নিকরণ শক্তি। পরমাণুর যোজনী ইলেকট্রনকে আকর্ষণ করে ধরে রাখে ইলেকট্রনের বিপরীত চার্জযুক্ত প্রোটন, যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত। তাই পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে যোজনী ইলেকট্রনের দূরত্ব যত কম হবে ঐ ইলেকট্রনের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ তত বেশি হবে ফলে উহার যোজনী ইলেকট্রন অপসারণে বেশি শক্তির প্রয়োজন হবে অর্থাৎ, আয়নিকরণ শক্তির মান বেশি। হবে। সুতরাং পরমাণুর আকার যত বেশি হবে আয়নিকরণ শক্তির মান ততই কম হবে। পর্যায় সারণির। শ্রেণিতে উপর থেকে যতই নিচে যাওয়া যায় ততই পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌলসমূহের আয়নিকরণ শক্তির মান হ্রাস ঘটে।

(২) শক্তিস্তর (Energy Level) : নিউক্লিয়াস হতে কত দূরত্বে ইলেকট্রন অবস্থান করছে তা প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যার মান থেকে

জানা যায়। অধিকন্তু ইলেকট্রনের অরবিটাল থেকেও জানা যায় যে, ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের সাথে শক্তিশালী না দুর্বল আকর্ষণ দ্বারা

যুক্ত। যদি n-এর মান বড় হয় তবে নিউক্লিয়াস থেকে ইলেকট্রন অনেক দূরে অবস্থান করে ফলে ইলেকট্রনের উপর নিউক্লিয়াসের

আকর্ষণ হ্রাস পায় এবং ইলেকট্রন সহজেই অপসারিত হয়। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে আয়নিকরণ শক্তির মান কম হয়।

 

 

ইলেকট্রন আসক্তির উপর বিভিন্ন নিয়ামকের প্রভাব
ইলেকট্রন আসক্তির উপর যেসব নিয়ামক প্রভাব বিস্তার করে যেগুলো হলো (1) পরমাণুর আকার (ii) নিউক্লিয়ার চার্জ (iii)

ইলেকট্রন বিন্যাস। নিম্নে নিয়ামকসমূহের প্রভাব বর্ণনা করা হলো : (১) পরমাণুর আকার (Size of Atom) ইলেকট্রনকে কোনো পরমাণুর নিজের দিকে আকর্ষণ করার প্রবণতাকে তার ইলেকট্রন আসক্তি বলে। সাধারণভাবে, পরমাণুর আকার বৃদ্ধিতে ইলেকট্রন আসক্তির মান হ্রাস পায়। পরমাণুর আকার যতই বৃদ্ধি পায় ততই নিউক্লিয়াস হতে পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তর দূরে সরে যায় এবং আগমনকারী ইলেকট্রনের প্রতি নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায় ফলে ইলেকট্রন আসক্তির মান কম হয়। যেমন- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 শ্রেণির মৌলসমূহের Fio এর ইলেকট্রন আসক্তির মান 3-6 ev অথচ (13) এর ইলেকট্রন আসক্তির মান 3-2 V

ক্লোরিন পরমাণুর আকারের চেয়ে আয়োডিন পরমাণুর আকার অনেক বড় বলে F এর তুলনায় এর ইলেকট্রন আসক্তির মান কম।

চিন্তা করুন ক্লোরিন পরমাণুর আকার ফ্লোরিন পরমাণু অপেক্ষা বড় হলেও ফ্লোরিন পরমাণুর ইলেকট্রন আসক্তির মান ক্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তির মান অপেক্ষা কম কেন?

(২) পরমাণুর উপস্তর (Subshell of Atom) উপরের আলোচনা হতে এটি পরিষ্কার যে, মৌলসমূহের ইলেকট্রন আসক্তি

পরমাণুর আকারের উপর নির্ভরশীল। পরমাণুর আকারের পাশাপাশি আরও একটি নিয়ামক হলো ইলেকট্রনের উপশক্তি স্তর। ইলেকট্রনের এসব উপত্তর হলো s, p. d এবং f-অরবিটাল। ১- অরবিটালের ইলেকট্রনের প্রতি নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি এরপর পর্যায়ক্রমে p. d এবং f- অরবিটালে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ কমতে থাকে। তাই s অরবিটালে ইলেকট্রন প্রবেশের ক্ষেত্রে ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি হবে এবং এরপর p. d এবং f অরবিটালে তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাবে। অর্ধপূর্ণ এবং পূর্ণ অরবিটালের স্থিতিশীলতা অপূর্ণ বা আংশিক পূর্ণ অরবিটাল অপেক্ষা অনেক বেশি। যেসব মৌলের যোজনী স্তর

অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ থাকে যেসব মৌলের ইলেকট্রন আসক্তির মান যোজনী স্তর ইলেকট্রন কর্তৃক আংশিক পূর্ণ থাকলে সেসব মৌলের

ইলেকট্রন আসক্তির মান অপেক্ষা কম।

 

তড়িৎ ঋণাত্মকতার উপর বিভিন্ন নিয়ামকের প্রভাব


সমযোজী বন্ধনে অংশগ্রহণকারী পরমাণুষয়ের শেয়ারকৃত ইলেকট্রন একটি পরমাণু কর্তৃক নিজের দিকে টেনে নেওয়ার তুলনামূলক

ক্ষমতাকে ঐ পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে। মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা যেসব নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয় তা হলো- (i) পরমাণুর আকার (ii) উপস্তর এবং (iii) ইলেকট্রন। বিন্যাস। নিম্নে নিয়ামকসমূহের প্রভাব বর্ণনা করা হলো

(i) পরমাণুর আকার (Size of Atom) :

পরমাণুর আকার বৃদ্ধিতে পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে সর্বশেষ শক্তিস্তর দূরে সরে যায় তাই বন্ধনে অংশগ্রহণকারী শেয়ারকৃত ইলেকট্রন জোড়ের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায় এবং পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায়। গ্রুপ-17 এর মৌলসমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান নিম্নে দেওয়া হলো :

F = 40, C1=3-0; Br = 2-8 1 = 2.5; At = 2.2

(১) নিউক্লিয়ার চার্জ (Nuclear Charge) : পরমাণুর নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধির সাথে মৌলের ইলেকট্রোনেগেটিভিটি সম্পর্কিত। নিউক্লিয়ার চার্জ যত বেশি হবে ঐ নিউক্লিয়ার কর্তৃক সর্বশেষ স্তরের ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ তত বেশি প্রবল হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌলসমূহের Li(3) হতে F(7) পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে নিউক্লিয়াসে একটি করে প্রোটন যুক্ত হয় এবং শেষ শক্তিস্তরে একটি করে ইলেকট্রন যুক্ত হয় অর্থাৎ ক্রমান্বয়ে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধিতে নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধি পায় এবং মৌলের তড়িৎ কণাত্মকতার মানও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই